বাংলার যুব সাথী প্রকল্প কি? সকল শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা কি মাসিক ১৫০০ টাকা পাবেন? জানুন বিস্তারিত

আজকের (৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজ্য বাজেটে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এক যুগান্তকারী ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য চালু হতে চলেছে “বাংলার যুব সাথী” প্রকল্প। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের যে বাজেট পেশ করেছেন, তাতে এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলার যুব সাথী প্রকল্প কী?

“বাংলার যুব সাথী” হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি নতুন বেকার ভাতা প্রকল্প। রাজ্যের যে সকল যুবক-যুবতী মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় পাশ করেছেন অথচ এখনো কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থান পাননি, তাঁদের মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। অনেকটা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর আদলেই যুবকদের স্বাবলম্বী করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যোগ্যতা ও শর্তাবলী (কারা টাকা পাবেন?):

সব বেকার যুবক-যুবতী এই সুবিধা পাবেন না, কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: আবেদনকারীকে ন্যূনতম মাধ্যমিক বা তার সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
  • বয়স সীমা: আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২১ বছর থেকে ৪০ বছর-এর মধ্যে।
  • বেকারত্ব: প্রার্থীকে অবশ্যই বেকার হতে হবে (কোনো সরকারি বা স্থায়ী বেসরকারি চাকরি করা চলবে না)।
  • অন্যান্য সরকারি সুবিধা: আবেদনকারী যদি ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের অন্য কোনো স্কলারশিপ বা মাসিক আর্থিক অনুদান গ্রহণ করেন, তবে তিনি এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

সুবিধা ও বরাদ্দ:

  • মাসিক ভাতা: যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন।
  • সময়কাল: চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত অথবা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত এই ভাতা দেওয়া হবে।
  • বাজেট: এই প্রকল্পের জন্য সরকার ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

কবে থেকে চালু হবে এই প্রকল্প?

বাজেট ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৫ই আগস্ট ২০২৬ থেকে “বাংলার যুব সাথী” প্রকল্পটি রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। মূলত নির্বাচনী বছরে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং যুবসমাজকে দিশা দেখাতেই এই সময়টি বেছে নেওয়া হয়েছে।

আবেদন পদ্ধতি:

বর্তমানে শুধুমাত্র বাজেটে এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। আবেদনের পোর্টাল বা অফলাইন ফর্ম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সাধারণত প্রকল্প চালুর কিছু সময় আগে (সম্ভবত জুন-জুলাই ২০২৬ নাগাদ) বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। মনে করা হচ্ছে, এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক (Employment Bank) বা আলাদা কোনো ডেডিকেটেড ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এর আবেদন গ্রহণ করা হবে।

Leave a Comment