পশ্চিমবঙ্গে যুব সমাজের জন্য বাজেট বরাদ্দ, আর্থিক নিরাপত্তায় নতুন প্রকল্প ‘বাংলার যুব সাথী’

মাধ্যমিক পাস বেকার যুবক-যুবতীদের মাসিক দেড় হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা, ৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ

কলকাতা, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে যুবসমাজের জন্য একটি যুগান্তকারী প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আজ বিধানসভায় ‘বাংলার যুব সাথী’ নামক এই নতুন প্রকল্পটি উন্মোচন করেন। ২০২৬ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে চালু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের মাধ্যমিক পাস বা সমতুল্য ডিগ্রিধারী বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

বাংলার যুব সাথী: প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য

  • যোগ্যতা: প্রার্থীদের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তাদের মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং রাজ্য সরকারের কোনও স্কলারশিপ গ্রহণকারী হওয়া যাবে না।
  • আর্থিক সহায়তা: প্রকল্পের আওতায় যোগ্য যুবক-যুবতীগণ মাসিক দেড় হাজার টাকা (₹১,৫০০) আর্থিক সাহায্য পাবেন।
  • সময়সীমা: সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত এই সাহায্য পাওয়া যাবে।
  • বরাদ্দ: প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল, উচ্চশিক্ষা বা দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সময় নেওয়া বেকার যুবসমাজকে একটি আর্থিক ভিত্তি প্রদান করা, যাতে তারা চাকরির সন্ধানে বা স্ব-কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হন।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা: ভাতা বৃদ্ধি ও নতুন সুবিধা

যুব সাথী প্রকল্পের পাশাপাশি আজকের বাজেটে রাজ্যের বিভিন্ন অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী ও সামাজিক কর্মীদের আর্থিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে:

  • লক্ষ্মীর ভান্ডার ভাতা বৃদ্ধি: এই জনপ্রিয় প্রকল্পের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • বিভিন্ন কর্মী গোষ্ঠীর ভাতা বৃদ্ধি: প্যারা টিচার, শিক্ষাবন্ধু, বিশেষ শিক্ষক (স্পেশাল এডুকেটর), আশাকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ ও গ্রাম পুলিশদের মাসিক ভাতা হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
  • আশাকর্মীদের জন্য নতুন সুবিধা: আইসিডিএস প্রকল্পের সাথে যুক্ত মহিলা কর্মীদের ভাতাও হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া আশাকর্মীদের জন্য ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং কর্মকালীন মৃত্যুতে পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান এর মত উল্লেখযোগ্য সুবিধা চালু করা হয়েছে।

উপসংহার

২০২৬-২৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ বাজেট যুবশক্তি ও সমাজের মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করা লক্ষ লক্ষ কর্মীর আর্থিক সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদানের উপর জোর দিয়েছে। ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্পটি শিক্ষিত বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সাথে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা রাজ্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়কে আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেয়। এই সমস্ত প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে রাজ্যের যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার কতটা উন্নতি ঘটে।

Leave a Comment